সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট কাটছে না। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পেট্রোল পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গাড়িচালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের। অনেক স্থানে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে রংপুর বিভাগে। সেখানে জ্বালানি না থাকায় একাধিক ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। একইসঙ্গে ডিজেলের ঘাটতিও প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। তবে কিছু এলাকায় ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি নিতে পারায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন গ্রাহকরা।
এদিকে চাঁদপুর শহরে ফয়সাল পেট্রোল পাম্পসহ একাধিক ফিলিং স্টেশন গত রাত থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা আগের মতোই একই পরিমাণ তেল পাচ্ছেন এবং সরবরাহে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যে পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যেত, এখনও সেই পরিমাণই মিলছে। কিন্তু যানবাহন ও গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সপ্তাহে চার দিন তেল সরবরাহ করা সম্ভব হলেও বাকি তিন দিন জ্বালানি না থাকায় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ভোর থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। চালকদের দাবি, কোথাও ৮ ঘণ্টা আবার কোথাও ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এক ভুক্তভোগী চালক জানান, তিনি রাত দেড়টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না। তার ভাষায়, খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুম সবকিছুই পাম্পের সামনে বসেই করতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে পাম্পের সামনে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।