
কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কওমি মাদরাসার জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, কওমি শিক্ষার বিভিন্ন স্তরকে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে সমমান নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। কোন স্তরটি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা ডিগ্রি পর্যায়ের সমতুল্য হবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কওমি মাদরাসা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষা কাঠামোকে যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে। পাশাপাশি কারিগরি ও আধুনিক শিক্ষার কিছু উপাদান সংযোজনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার চায় না কোনো শিক্ষাব্যবস্থা আলাদা বা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকুক, বরং সব ধারার শিক্ষাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে।
মাঠ পর্যায়ের সমস্যাগুলো সরাসরি শুনে সরকার নীতিনির্ধারণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত কার্যকর এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ভোগান্তি কমাতে প্রতি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা খাতে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে বাজেট কোনো বাধা নয়। একই সঙ্গে দেশে শিগগিরই প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। শিক্ষকদের মানোন্নয়নে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা হেডমাস্টার নিয়োগ জট দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় জিপিএকেন্দ্রিক প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসার জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দমুখর শিক্ষা নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ জয়’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেসসহ বিভিন্ন উদ্যোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park