
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান প্রায় অভিন্ন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৫ মে) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। একইসঙ্গে শি জিনপিং দাবি করেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং সাম্প্রতিক আলোচনায় এমন কিছু বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে, যা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে।
শুক্রবার সকালে চীনের ঐতিহ্যবাহী ঝংনানহাইয়ে পৌঁছায় ট্রাম্পের গাড়িবহর। দ্বিতীয় দফার বৈঠকে দুই দেশের সীমিত সংখ্যক প্রতিনিধি অংশ নেন। রুদ্ধদ্বার এই আলোচনায় সাংবাদিকদের প্রবেশও সীমিত রাখা হয়। চা চক্রের মাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং দুই দেশ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তিগুলোর বিস্তারিত না জানালেও তিনি দাবি করেন, এগুলো দুই দেশের জন্যই উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে আনবে। শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি শি’র ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা করেন এবং দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কারণে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তারা এমন অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করেছেন, যা অন্যরা করতে পারত না।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কীভাবে অগ্রসর হওয়া যায়, তা নিয়ে দুই দেশের আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা তারা কেউই চায় না। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান কাছাকাছি বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সফরকে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী আখ্যা দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে একটি নতুন ধরনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয়েছে, যা কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও গঠনমূলক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে। শি আরও জানান, শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গোলাপের বীজ পাঠাবেন।
আলোচনার শেষাংশ মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এর আগে শি জিনপিং ট্রাম্পকে ঝংনানহাই ঘুরে দেখান। বহুল আলোচিত সফর শেষে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park