
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। দিবসটি স্মরণে সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা, যেখানে আবরারের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং সমাজে ন্যায়, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, প্রাক্তন কর্মী এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সভায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আবরার ফাহাদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে আছে। তাঁর শাহাদত তরুণ সমাজকে সত্য ও আদর্শের পথে অনুপ্রাণিত করছে। নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই আজ সময়ের দাবি।”
ছাত্রশিবির নেতারা জানান, সারাদেশে ৬ অক্টোবরকে তাঁরা ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ হিসেবে পালন করছেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও জেলা পর্যায়ে দোয়া মাহফিল, আলোচনা ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
আবরার হত্যার পটভূমি:
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে সহপাঠীদের নির্যাতনে নিহত হন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ। পরদিন পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তে উঠে আসে, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে পিটিয়ে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন গড়ে তোলেন।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে আপিল পর্যায়ে বিচারাধীন।
আবরারের স্মৃতি ও প্রভাব:
আবরার ফাহাদ ছিলেন সমাজ ও রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন এক তরুণ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তি নিয়ে সমালোচনামূলক ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার পরপরই তিনি হত্যার শিকার হন। এ ঘটনার পর দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ছাত্র রাজনীতিতে সহনশীলতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নতুন সচেতনতা সৃষ্টি হয়।
দেশজুড়ে স্মরণ কর্মসূচি:
আবরারের স্মরণে শুধু ছাত্রশিবির নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনও দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। বুয়েট ক্যাম্পাসে সহপাঠীরা প্রদীপ প্রজ্বালন ও নীরব মিছিল করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park