আন্তর্জাতিক’ শব্দটি বাদ দিয়ে আগামীতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পরিবর্তে ‘ঢাকা বাণিজ্য মেলা’ নামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠানসমূহের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানসম্পন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে পরিচিত করা। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ বিদেশি প্রতিষ্ঠান দূতাবাস বা প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে অংশ না নিয়ে স্থানীয় এজেন্ট বা ব্যক্তির মাধ্যমে অংশ নিচ্ছে। এতে অনেক সময় মানহীন বা স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য বিদেশি ব্র্যান্ড নামে উপস্থাপিত হচ্ছে। এর ফলে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন, মেলার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক নামটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আন্তর্জাতিক মেলা ক্যালেন্ডার ও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের আংশিক মেলা ক্যালেন্ডার অনুমোদন করা হয়। এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বিদেশে আয়োজিত প্রতিটি মেলার ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ জরুরি। যেখানে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ সম্ভব, সেখানে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অংশগ্রহণ নয়, দেশের উন্নতি ও ব্যবসায়িক অগ্রগতি ঘটাতে হবে।
এছাড়া বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণ ও বাজার বহুমুখীকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে ইপিবি একটি আন্তর্জাতিক সোর্সিং ফেয়ার আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। সভায় নভেম্বর মাসে ‘সোর্সিং বাংলাদেশ ২০২৫’ মেলা আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া হয়। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, সোর্সিং মেলা না হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশীয় পণ্যের পরিচিতি বাড়বে না এবং সক্ষমতা গড়ে উঠবে না। এজন্য বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রচারণা জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park