
নওগাঁর আত্রাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ও মিটার রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে গ্রাহক। প্রায় রাতেই কোন না কোন গ্রামে ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরি হয়ে যাচ্ছে। মিটার চোরেরা মালিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য তাদের সাথে যোগাযোগের নম্বরও দিয়ে যাচ্ছে চিরকুটের মাধ্যমে।
এমনই ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের তারুটিয়া ছোটডাঙ্গা ও হাতিয়াপাড়া গ্রামে। জানা যায়, তারুটিয়া ছোটডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মোমিনের রাইসবিলের একটি মিটার এবং হাতিয়াপাড়া গ্রামের মঈনুল ইসলাম লাফুর রাইসবিলের একটি মিটার চোরেরা খুলে নিয়ে যায়। এ সময় ওই চোরেরা যোগাযোগের জন্য চিরকুটে তাদের মোবাইল নম্বর রেখে যায়।
একই কায়দায় গত বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার কাশিয়াবাড়ী গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুস ছামাদের গভীর নলকূপের বিদ্যুৎ খুঁটি থেকে ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় পৌনে ২ লাখ টাকা বলে গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে মাঝে মধ্যেই উপজেলার কোন না কোন গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় গ্রাহকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে বোরো ধান কর্তন করার পর চোরেরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একের পর এক মিটার চুরি ও ট্রান্সফরমার চুরির পরও প্রশাসনের আইনি তেমন কোন পদক্ষেপ না থাকায় অভিযোগ করতেও তারা নারাজ। তারুটিয়া ছোটডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মোমিন বলেন, এবার দিয়ে ৪ বার আমার একই স্থান থেকে মিটার চুরি হলো। পূর্বে মিটার চুরির পর অভিযোগ করেও আমি এর কোন প্রতিকার পাইনি। এ জন্য অভিযোগের প্রতি আমার কোন আগ্রহ নেই।
কাশিয়াবাড়ী গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুস ছামাদ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির পর আমরা বিষয়টি স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে জানিয়েছি। তারা বলেছেন, তারাই এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। তবে এখন পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থার দৃশ্যমান কোন কিছু হয়নি। নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আত্রাই জোনের এজিএম রাজু
হাসান বলেন, রাইসবিলের মিটার চুরির বিষয়টি আমাদেরকে এখন পর্যন্ত কেউ জানায়নি। জানালে আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে আইনি সহায়তা নেব। আত্রাই থানার (ওসি) মো. আব্দুল করিম বলেন, "ট্রান্সফরমার বা মিটার চুরির ব্যাপারেও কেউ কোন অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park