আশুলিয়া থেকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে উত্তরায় গিয়ে ১১ বছরের শিশু মোহনাকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আশুলিয়া এক্সপ্রেস’-এর একটি ভিডিও প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ত্বরিত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক রাজু আহমেদ তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন ওই বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম। এদের মধ্যে রুপালী খাতুনের দুই শিশুসন্তান (বয়স ২ বছর ও ৬ মাস) কোনো অভিভাবক না থাকায় তাদেরও মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার সকালে নির্যাতিত শিশু মোহনার ওপর চালানো নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে আশুলিয়া এক্সপ্রেসের একটি ভিডিও প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি দ্রুত উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদুজ্জামানকে অবগত করেন আশুলিয়া এক্সপ্রেসের প্রতিনিধি মাসুদুর রহমান রুবেল। পরে এসআই ফরিদুজ্জামান বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহম্মেদের নির্দেশনায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক রোবেল মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ৭/সি রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
নির্যাতিত শিশু মোহনার বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। গত বছরের জুন মাসে তিনি মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ নভেম্বরের পর থেকে পরিবারকে শিশুটির সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি মেয়েকে ফেরত পাওয়ার পর তার সারা শরীরে গরম খুন্তির ছেঁকা ও গুরুতর জখমের চিহ্ন দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে নির্যাতিত শিশু মোহনার চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের পক্ষ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসা ও সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।