ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতিতে পুরোপুরি সময় দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তার কখনো ছিল না এবং ভবিষ্যতেও নেই। আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা কিংবা নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকলেও, এই পরিস্থিতি স্থায়ী হবে না বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সাকিব। দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি কখনো দল পরিবর্তনে আগ্রহী ছিলেন না। ছোট দলে খেললেও সেই দলের প্রতি তিনি অনুগত ছিলেন এবং তার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই বলে মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, কাউকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, জোর করে কিছুদিন কাউকে দমিয়ে রাখা গেলেও এতে দেশের বা রাজনীতির উন্নতি হয় না।
রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত বলে মত দেন সাকিব। তিনি বলেন, যদি অতীতে ভুল হয়ে থাকে এবং একই ভুল আবার পুনরাবৃত্তি করা হয়, তাহলে এই প্রতিহিংসার খেলা চলতেই থাকবে। এই ধারার অবসান ঘটাতে কোনো না কোনো পক্ষকে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে, আর যে দল এটি শেষ করতে পারবে, তারাই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজ নির্বাচনী এলাকা মাগুরা নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে সাকিব বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ তাকে আবারও ভোট দেবে বলে তার শতভাগ বিশ্বাস রয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের পরবর্তী সম্ভাব্য নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি আগ্রহী ছিলেন এবং নির্বাচনে দাঁড়িয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। তবে পারিপার্শ্বিকতা ও দলের সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দেশে ফেরার প্রসঙ্গে সাকিব আল হাসান বলেন, তিনি আইনের মুখোমুখি হতে চান, তবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি কোনো বিশেষ প্রটোকল চান না উল্লেখ করে বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন যেন হয়রানি না করা হয়, সে নিশ্চয়তা চান। তিনি জানান, এই নিশ্চয়তা যদি আগামীকাল দেওয়া হয়, তাহলে তিনি পরশুই দেশে ফিরে আসবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান। তবে তার সংসদীয় মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ চেক জালিয়াতি ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলা আইনিভাবে মোকাবেলা করতে চাইলেও দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মূল বাধা হিসেবে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন।
মন্তব্য করুন