শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

সুনামগঞ্জে বানের জলে ভাসছে লেইচ নূরের স্বপ্ন 

কামাল হোসেন
  • প্রকাশ রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০২২
  • ৬৫ বার-পাঠিত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি >সুনামগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর আরপিননগর এলাকার বাসিন্দা লেইচ নূর মিয়া। স্বপ্ন দেখেছিলেন মাছ চাষ করে লাভবান হবেন।

পরিবার পরিজন নিয়ে থাকবেন সুখে শান্তিতে। সেই স্বপ্ন সত্যি করতে ঝণ করে টাকা নিয়ে তিনটি পুকুরের শুরু করে ছিলেন তার স্বপ্নের মাছ চাষ। কিন্তু হটাৎ যেন সেই স্বপ্ন নিমিষেই দুলিসাৎ হয়ে গেলে।

কিন্তু সম্প্রতি সুনামগঞ্জের বয়ে যাওয়া উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পানিতে ভেসে যায় লেইচ নূর মিয়ার সেই সোনালী স্বপ্ন। ভেসে যায় তার সব পুকুরের মাছ।

লেইচ নূর মিয়া তার সোনালী স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে বানে জলে পুকুরের সকল মাছ ভেসে যাওয়ায় এখন সে নিশ্বস হয়ে প্রায় দিশেহারা।

গতব(১৬ জুলাই শনিবার) সরেজমিনে গিয়ে উদ্যোগক্তা লেইচ নূর মিয়া জানান, এনজিও থেকে ঋণ( লোন) লিয়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবান নগর ইউনিয়নে মনরপুর গ্রামে ২ টি পুকুরে ৪০ লক্ষ টাকার মাছ ও সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম হাজীপাড়া ১ টি পুকুরে ৫ লক্ষ টাকার রুই, কাতলা, কারফু, গাসকাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনে ৩ টি পুকুরে মাছ চাষ করছিলেন লেইচ নূর মিয়া।

এই মাছ গুলো বড় হয়ে বিক্রি করলে সকল ঋণ সুদ করে  তার লাভবান হতো ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু  তার চোখের সামনেই বানের জলে ভেসে গেছে তার সকল স্বপ্ন । তার স্বপ্ন গুলো বানের জলে ভেসে যাওয়ার দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলনা লেইচ নুর মিয়ার।

শুধু তাই নয়! বিগত ২০২০ সালের বন্যায়ও লেইচ নুর মিয়ার আরোও তিনটি পুকুর থেকে ৩০ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গিয়েছিল। যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ২০২২ সালে বড় করে তিনটি পুকুরে ঋণ নিয়ে নতুন করে আবারও মাছ চাষ শুরু করেছিলেন লেইচ নুর মিয়া। 

ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষি লেইচ নূর মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে  জানান, আমি একবারে নিশ্বস হয়ে গেলাম। অনেক আশা নিয়ে তিনটি পুকুরে ৪৫ লক্ষ টাকার মাছ চাষ করেছিলাম ভেবেছিলাম মাছ গুলো বড় করে বিক্রি করতে পারলে গতবারের ঋণ সহ এবারের ঋণও সুদ করে কিছুটা লাভবান হবো।

কিন্তু বন্যার পানি আমার সব মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সেই সাথে আমাকেও মাইরা তইয়া গেছে।এখন আমি এত মানুষের ঋণ কেমনে সুদ করব সেই চিন্তায় এখন আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি।

লেইচ নুর মিয়ার ব্যবসায়ী পাঠনার সোহেল মিয়া জানান, আমরা একসাথে ১০ একর পুকুরে ৪৫ লাখ টাকার মাছ চাষ করেছিলাম। বানের পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন চিন্তায় আছি কয়েকটি দোকান থেকে মাছের খাদ্য বাকি এনে ছিলাম।

তা কিভাবে পরিশোধ করব আর মাছ কিনার জন্য ঋণ করে ছিলাম তাই কিভাবে সুদ করবো তা নিয়ে চিন্তায় আমাদের খাওয়াত নাই। রাইতে ঘুমও আসেনা। লেইচ নুর মিয়ার পশ্চিম হাজী পাড়া পুকুরে দায়িত্বে  থাকা আব্দুস শহীদ জানান, বন্যার পানি যখন পুকুরে এসে পড়ছে তখন পানি আটকানোর অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি।

 পানি গতি এতটা ভয়াবহ ছিল যে পুকুরের পার ভেঙে সকল মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে পরে কোন রকম জানটা নিয়ে সেখান থেকে বেঁচে ফিরেছি।

সুনামগঞ্জ জেলা মৎস কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস চাষীদের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারা যাতে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে সরকার সেই ব্যবস্থা করবে।

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By Theme Park BD