216 বার পঠিত
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা মানুষের মনুষ্যত্ব বিকশিত করে। তেমনি শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ভ্রমণ। এর মাধ্যমে নিজ চোখে দেখে শিক্ষালাভ করা যায়। তাই বসন্তের রেশ শেষ না হতেই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ভ্রমণ। আর এই ভ্রমণে অংশগ্রহণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ। ঠিক তেমনি পড়াশোনা পাশাপাশি শারীরিক কসরতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারণ সুস্থ দেহে সুস্থ মন। আর শরীর ও মন সুস্থ রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব অন্যতম। তাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আন্ত:বিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। এতে অংশগ্রহণ করে বর্তমান শিক্ষার্থীদের ৫টি ব্যাচ। খেলাটি অনুষ্ঠিত হয় প্রোগোজ স্কুলের খেলার মাঠে। আর টুর্নামেন্ট হয় ডে নাইট ম্যাচ। ফলে খেলার মাঠে খুব সুন্দর আলোকসজ্জা করা হয়। মাঠের চর্তুদিকে হ্যালোজেন লাইটের আলোতে আধার রাত কেটে যায়। এছাড়া ধারাভাষ্যকার দেওয়ার জন্য কমেন্টারি বক্সের আয়োজন করা হয়। ফলে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নতুন মাত্রায় রূপ নেয়। আর প্রত্যেক খেলোয়াড়দের নাম, জার্সি নাম্বার আরো চমৎকার করে তুলছিল।
খেলা শুরু ঠিক বিকেল ৪টায়। প্রত্যেক দল ৪টা করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় এবং সর্বোচ্চ পয়েন্টের ভিত্তিতে পরবর্তী রাউন্ডে উন্নীত হতে হয়। আর এটি এমন খেলা যেখানে স্বল্প দৈর্ঘ্যের পিচে খেলা হয়। এখানে ছক্কা মারলে একজন ব্যাটার আউট হয়ে যায়। যা মূলত শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নামে অধিক জনপ্রিয়। প্রতি ম্যাচে ভালো পারফর্মেন্সের জন্য ম্যান অফ ম্যাচ পুরষ্কার রাখা হয়। এতে একজন খেলোয়াড় ভাল খেলে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নতুন করে অনুপ্রেরণা পায়। আর ম্যাচ হয় প্রতি ইনিংস ৮ ওভারে। একজন বোলার সর্বোচ্চ ৩ ওভার বল করতে পারে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে ১৬ ব্যাচ সবচেয়ে এগিয়ে ছিল। তারা ৩ টা ম্যাচে জয়লাভ করে সবার উপরে পয়েন্ট টেবিলে জায়গা দখল করে নেয়। আর ১৫, ১৩, ১৭ ব্যাচ যথাক্রমে ২টা করে ম্যাচ জিতে। কিন্তু ১৪ ব্যাচ কোনো খেলায় জয়লাভ করতে পারে নি। অথচ তারা গতবারের রানার্সআপ ছিল। খেলা শেষে কঠিন সমীকরণে সম্মুখীন হয়। ১৫ ব্যাচ তাকিয়ে ছিল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১৩ ব্যাচ বনাম ১৬ ব্যাচ। ইতিমধ্যে ১৬ ব্যাচ ফাইনাল নিশ্চিত করে। কিন্তু সমীকরণ এমন হয় যে ১৩ ব্যাচ হেরে গেলে বিদায় নেবে। আর যদি জয়লাভ করে তাহলে ১৬ ব্যাচের সাথে ফাইনাল খেলবে। কিন্তু হেরে গেলে ১৫ ব্যাচ ফাইনালে উন্নীত হবে। অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ১৩ ব্যাচ তারা পরাজিত হয়। আর ১৫ ব্যাচ ফাইনাল খেলবে ১৬ ব্যাচের সাথে। রাত যত গভীর হয় খেলার উত্তেজনা বাড়তে থাকে। উভয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝে চিন্তার ছাপ। এদিকে ১৫ ব্যাচ নতুন উদ্যমে জেগে ওঠে। কারণ তারা ছিল গতবারের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন।
সব জল্পনা কল্পনা শেষ করে অবশেষে শুরু হয় ফাইনাল খেলা। টসে জিতে ১৫ ব্যাচের অধিনায়ক সাফওয়ান সজিব ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ৮ ওভার শেষে তারা ৬৩ রান সংগ্রহ করে। তাদের মধ্যে হাসান আহমেদ খুব চমৎকার ব্যাটিং করে চার মেরে দলীয় রান বেশি করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বধনী ব্যাটিং রাকিব ও সাফওয়ান উড়ন্ত সূচনা করেন। সেই মুহূর্তে রাকিব আউট হলে শাওন ব্যাটিং নেমে জয় নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে তারা দ্বিতীয় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আর সমাপ্তি হয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আন্ত:বিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। খেলা শেষে প্রাইজ মানি ও ট্রফি হাতে তুলে দেন শ্রদ্ধেয় ফেরদৌস হোসেন স্যার। ফলে বিজয়ী দলের মাঝে আনন্দ উত্তেজনা বিরাজ করে। অতপর রাত ১ টায় পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়ে বিজয়ী দল আনন্দ ভাগাভাগি করে। ২০ মার্চ ২০২৩, দিনটি স্মরণীয় হয়ে গেল।
মোঃ আবদুল্লাহ আলমামুন
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা