বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আত্রাইয়ে দর্শনীয় ষাঁড় সম্রাটের দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা রাণীশংকৈলে পুকুড়ের পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু জামালপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগ,থানায় মামলা মতলব উত্তরে ডাক্তারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পাল্টাচ্ছে হাসপাতালের পরিবেশ, বাড়ছে সেবার মান কাল থেকে গবিতে ঈদুল আযহার ছুটি  শুরু দম ফেলার ফুরসত নেই ত্রিশালের কামারদের! ছেলের সামনে বাবাকে  কুপিয়ে হত্যা, পিতা-পুত্র গ্রেফতার… রাণীশংকৈলে বিপুল উপস্থিতিতে শিক্ষক আইরিনের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন চলনবিলে কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট, কৃষকের ফুটে উঠেছে রঙিন হাঁসি পাবনায় তীব্র লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ, ঈদ বাজারে লোকসানের আশঙ্কা

রামপুরের বিখ্যাত কচুরলতি দেশের চাহিদা পূরণ করে রফতানি হচ্ছে

ইমরান হাসান
  • প্রকাশ বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২
  • ১১২ বার-পাঠিত

ত্রিশাল প্রতিনিধি>

ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কচু ও কচুরলতি দেশের চাহিদা পূরণ করে সৌদি আরব, দুবাই, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই রফতানি হচ্ছে। পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ায় এই কচুরলতি এখন প্রথম শ্রেণির সবজি হিসেবে সর্বমহলে গ্রহণীয়। ধানের চেয়ে অধিকতর লাভজনক হওয়ায় কচু চাষের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকেরা।কচুর লতি বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ত্রিশালের অনেক কৃষক।

ত্রিশালের রামপুর ইউনিয়নকে সবজি গ্রাম বলা হয়। রামপুরের বিখ্যাত কচু ও কচুরলতি সারা দেশে এক নামে পরিচিত। কচুরলতি ও কচুর বাজারে আসলেই চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রিও হয় ধুমধাম।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের গঁফাকুঁড়ি বাজারে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে কচুরলতি ও কচুর হাট। কৃষকরা ক্ষেত থেকে কচুরলতি ও কচু তুলে এ বাজারে নিয়ে আসে। আঞ্চলিক ও ঢাকার পাইকার এখান থেকে কচুরলতি ও কচু কিনে তা বান্ডিল করে। এ বাজার থেকে পাইকারা কিনে ট্রাকে ভরে ঢাকার কারওয়ান বাজার, মহাখালী কাঁচা বাজার, গাজীপুর, টঙ্গীসহ সারা দেশে কচুর লতি ও কচু নিয়ে যায়।

গত পনেরো বছর আগে লতির ব্যবসা শুরু করেন হোসেন আলি। সে সময় লতি চাষ করে কোনো রকম চলত হোসেনের সংসার। অভাবী সংসারে ২ ছেলে ৩ মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিল হোসেন। থমকে না গিয়েও কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন তিনি।
আজ তিনি কচু ও লতি চাষ করার পাশাপাশি কচু লতির পাইকারি ব্যবসা করে এলাকায় জমি ক্রয় করে ছেলে মেয়েদের পড়া লেখার খরচ করেও সংসার চালাচ্ছে স্বাচ্ছন্দ্যে। এখন আর অভাব কি জিনিষ তার পরিবারের সদস্যদের বুঝতে হয় না।

কচু ও কচুরলতি বিক্রেতা ঈমান আলী বলেন, আমি কৃষকদের কচু ও লতি ক্ষেত ক্রয় করে ঢাকার কাওরান বাজার, গাজীপুর টঙ্গী সুইস গেইটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করি। আমাদের রামপুরের এ লতি ঢাকার পাইকাররা বিদেশে পাঠায়। তিনি আরও বলেন, আমার লতির ব্যবসায় ১৫ জন শ্রমিক বান্ডিলের কাজ করে এতে তাদের সংসারও চলছে ভালোভাবেই। কচুর লতি বিক্রি করার পর কচু বিক্রি করি।

স্থানীয় কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, কচু ক্ষেত করে আমরা ৩ মাস লতি বিক্রি করি। প্রতি সপ্তাহে লতি না উঠালে কচু ক্ষেতে নতুন করে চারা গজিয়ে আগাছা জন্ম নেয়। তিনি আরও জানান, আমার ৬ কাঠা জমিতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮ হাজার টাকার লতি বিক্রি করি। মাসে ৩২ হাজার টাকার লতি বিক্রি করি। লতি বিক্রি শেষ হলেই কচু বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠে।

কচুরলতি ও কচু কিনতে আসা পাইকার আমজাত হোসেন জানান, আমি অনেক বছর ধরেই কচু ও কচুরলতি এ বাজার থেকে কিনে ঢাকায় নিয়ে যাই। কচুরলতি ও কচুর ভালো চাহিদা রয়েছে। ঢাকার পাইকারদের কাছ থেকে শুনেছি। এ কচুরলতি ও কচু বিদেশেও পাঠানো হয়। বিদেশেও এর অনেক চাহিদা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান জানান, এ অঞ্চলের কচুর লতি ও কচু সারা দেশে বিখ্যাত। রামপুর গ্রামকে অনেকেই সবজি গ্রাম নামে চেনেন। গঁফাকুঁড়ি বাজার থেকে ট্রাকে ভরে প্রতিদিন পাইকাররা কচুরলতি ও কচু নিয়ে যাচ্ছেন। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে রামপুরের কচু ও কচুরলতি রপ্তানি করার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By Theme Park BD