রাজনীতিকে পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে তারাই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বলেন, এই অপসংস্কৃতির কারণে সমাজে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, কিছু গোষ্ঠী মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত নিরাপদ রাখতে দিচ্ছে না।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দলের কোনো সংসদ সদস্য বিনা ট্যাক্সের গাড়ি নেবে না এবং স্বল্পমূল্যে দেওয়া সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ করবে না। প্রয়োজন হলে রিকশায় চলাচল করবে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাকে ব্যক্তিগত ভোগের বস্তুতে পরিণত করবে না—এমন নীতির কথাও জানান তিনি। যার আর্থিক সক্ষমতা থাকবে, তিনিই পূর্ণমূল্য পরিশোধ করে গাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনবেন বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। কেউ জনগণের সম্পদে হাত দিলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কঠোর বার্তা দেন জামায়াত আমির।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত করা হবে। কেউ চাঁদা নিতে এলে তাকে প্রতিরোধ করা হবে এবং সমাজে মায়েদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো ঘটনা আর সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে দেশ আজ ছয়ে গেছে, যার দায় অতীতে যারা দেশ শাসন করেছে তাদেরই বহন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন এলেই বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলে যাওয়া হয়। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও অসৎ রাজনীতির কারণে সেই বৈষম্য আজও টিকে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চা শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের সন্তানরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। যুগের পর যুগ একই পেশায় আবদ্ধ থেকে কঠোর পরিশ্রম করলেও জীবনমানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চা বাগানের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটিয়ে শ্রমিকদের জীবনমানের পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, তাদের সন্তানদের কেউ আর শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশকে আর বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—চার ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে এই দেশে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। বাংলাদেশ একটি ফুলের বাগানের মতো, যেখানে নানা ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকে। ধর্মের ভিত্তিতে বাড়াবাড়ি ইসলাম সমর্থন করে না এবং কোনো ধার্মিক মানুষ কখনো অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।