জবি প্রতিনিধি :বর্ষা যেন তার প্রথম পরশে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে। রোদের প্রখরতা কাটিয়ে বৃষ্টির নরম ছোঁয়ায় ক্যাম্পাসের মাটিতে জমেছে পানির চিকচিকে আল্পনা। সেই পানির ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকে ঝরে পড়া লাল-কমলা পাঁপড়ি, যা যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক অনবদ্য চিত্রকর্ম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবহন বাসটির পাশে এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন এক শিক্ষার্থী। ছবিটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা ছবিটিকে বলছেন—”নীরব ক্যাম্পাসে প্রকৃতির কবিতা”।
গতকাল থেকেই ক্যাম্পাসে দেখা দিয়েছে এক ধরনের শূন্যতা ও নীরবতা। কারণ, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২২ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। আগামী ২৫ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা থাকবে দীর্ঘ অবকাশে। এরই মাঝে প্রকৃতি যেন নিজের মত করে দখলে নিয়েছে এই প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি কোণ।
ছবিটির বার্তা শুধু প্রকৃতির নয়, বরং অনুভূতিরও—
যেখানে ক্লাস আর ক্যান্টিনের কোলাহল থেমে গিয়েছে, সেখানে পাতা ঝরা গাছ আর বৃষ্টির ফোঁটা যেন কথা বলছে চুপিসারে।
কেউ কেউ বলছেন,
“এই ছবি যেন আমার মনের একটা অংশ! ক্লাসের ব্যস্ততা নেই, বন্ধুদের হাসাহাসি নেই—তবু একটা প্রশান্তি, একটা সৌন্দর্য ছুঁয়ে যায় হৃদয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্ন ও ছিমছাম ক্যাম্পাসে বর্ষার এমন রূপ বারবার দেখা যায় না। এমন দৃশ্য শুধু রূপে নয়, মর্মে ছুঁয়ে যায় সবাইকে।
ছবিটি আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি কখনো থেমে থাকে না। মানুষ থেমে গেলেও, প্রকৃতি ঠিক তার মত করে চলতে থাকে, সৃষ্টি করে স্মৃতি, দৃশ্য এবং গভীর অনুভব।
এই দৃশ্য শুধু বৃষ্টিভেজা পাঁপড়ির নয়, বরং তা শিক্ষার্থীদের ছুটির আবেগ, স্মৃতিময় ক্যাম্পাস এবং বর্ষার মুগ্ধতার প্রতিচ্ছবি।