বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আত্রাইয়ে দর্শনীয় ষাঁড় সম্রাটের দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা রাণীশংকৈলে পুকুড়ের পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু জামালপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগ,থানায় মামলা মতলব উত্তরে ডাক্তারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পাল্টাচ্ছে হাসপাতালের পরিবেশ, বাড়ছে সেবার মান কাল থেকে গবিতে ঈদুল আযহার ছুটি  শুরু দম ফেলার ফুরসত নেই ত্রিশালের কামারদের! ছেলের সামনে বাবাকে  কুপিয়ে হত্যা, পিতা-পুত্র গ্রেফতার… রাণীশংকৈলে বিপুল উপস্থিতিতে শিক্ষক আইরিনের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন চলনবিলে কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট, কৃষকের ফুটে উঠেছে রঙিন হাঁসি পাবনায় তীব্র লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ, ঈদ বাজারে লোকসানের আশঙ্কা

বর্ষাকালে মৃৎশিল্পীদের দূরাবস্থা,নেই আধুনিকতার ছোঁয়া  

শরিফা বেগম শিউলী
  • প্রকাশ বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২
  • ২৯ বার-পাঠিত

বর্ষাকালে কুমার পাড়ায় মৃৎশিল্পীদের দূরাবস্থা দেখার কেউ যেন নেই। মৃৎশিল্প প্রাচীন শিল্পকলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। কুমোরের বা ক্ষিয়ার মাটি দিয়ে মৃৎশিল্পকর্ম করে কুমাররা।

টালি, ক্ষুদ্র মূর্তি, ভাস্কর্য এমনকি ব্যবহারিক কারিগরি মৃৎশিল্পে তৈরী মাটির হাঁড়ি পাতিল মৃৎশিল্পের একেকটি রূপ হিসেবে তৈরী করে। বৃষ্টি বাদলের ছয়মাস কোনরকম মাটির জিনিসপত্র তৈরি করা যায়না। রোদ থাকেনা মাটির জিনিসপত্র গুলো শুকাতে পারে না। তাই কুমার’রা এখন চায় আধুনিকতার ছোঁয়া। 
মানবসভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আদিম মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে পৃথিবীর আদি ও অকৃত্রিম উপাদান মাটি দ্বারা মৃৎপাত্র নির্মাণ করেন। মৃৎপাত্র নির্মাণ থেকেই আদিম মানুষের শৈল্পিক চিন্তাভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।

মৃন্ময়পাত্র বিশ্বের সব উন্নত সভ্যতায় সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। প্রাচীন সভ্যতাগুলোর প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখননে প্রাপ্ত নিদর্শন মৃৎশিল্পের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার দক্ষিণ পানাপুকুর পালপাড়ায় গেলে জানা যায়, ৩৩টি বাড়ি মিলে গঠিত পালপাড়া। প্রতেকটা বাড়িতে ৪/৫ জন করে মাটির কাজ করে। দেরশো (১৫০) বছর আগে থেকেই বাপ দাদার বংশের শুত্র ধরেই মাটি দিয়ে হাঁড়ি, কড়াই,বাটনা, তস্তি, হাতি, ঘোড়া, ব্যাংক, কলস,ফুলের টপ,বাচ্চাদের খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের মৃৎশিল্প বিক্রী করে  তাদের সংসার চলে। 

গ্রামের মোড়ল শ্রী মন্টু নাথপাল বলেন, আমরা বর্ষাকালের ছয়মাস মাটির কাজ করতে পারিনা। মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ সবকিছু বানানো কাজ বন্ধ থাকে। শুকাতে,পোঁড়াতে পারি না। প্রতেক সিজেনে ৪০/৫০হাজার টাকার মাটি কিনতে হয়। সে মাটিও ঠিক ভাবে পাওয়া যায় না।

মাটির হাঁড়ি, পাতিল, খেলনা, হাউদা,ইত্যাদী জিনিসপত্র গুলো পাঁচ টাকা থেকে দের’শ (১৫০) টাকা পর্যন্ত বিক্রি করি সংসার চালাই সেটাও বন্ধ। চেয়ারম্যান মেম্বার আমাদের কোন সহযোগিতা দেয় নাই।

খুব কষ্ট করে দিন কাল পার করতেছি।  একই পাড়ার শ্রীমতি ভারতী রানীপাল বলেন, হামরা কুমারের কাজ করি খাই, এলাতো বৃষ্টি বাদলের দিন মাটির জিনিস গড়বার পাইনা, রইদ উটেনা,শুকপার পাইনা, বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করা খুব সমস্যা হয়া গেইচে। হামার এটে জনপ্রতিনিধি আছে তারাও হামাক কোনো দেয়না। 

অনার্স পড়ুয়া অনন্ত চন্দ্র পাল বলেন, পালপাড়ায় ৩৩টি পরিবার আমরা সবাই মাটির জিনিসপত্র তৈরী করি। কিন্তু এইসময় মাটির জিনিসপত্র বানাতে ও বেঁচাইতে খুব কষ্ট। ঘরে যেগুলো মাটির জিনিসপত্র থাকে, রাস্তাঘাটের কারণে সেগুলো বিক্রির জন্য ছয় মাস বাজারেও তুলতে পারিনা।

প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁদাপানির রাস্তা। সরকারের কাছে আমার আবেদন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাংলাদেশ যেভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সেভাবে যদি মৃৎশিল্প তৈরী করার ডিজিটাল স্বর আনজাম দিয়ে সহযোগিতা করে, তাহলে বর্ষাকালের ছয়মাস বসে থাকার দিন শেষ হয়ে যাবে।

এব্যাপারে বড়বিল ইউপি চেয়ারম্যান শহিদ চৌধুরী দ্বীপ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নিজ ওয়ার্ডে ঐ হিন্দু পাড়া। এর আগে যে সরকারি বরাদ্দ এসেছিলো সেগুলো দেওয়া হয়েছে। এখন কিছু নাই দেবার মতো আবার সরকারি বরাদ্দ আসলে আমি দিবো।

ওনারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাটির জিনিসপত্র তৈরীর সরান জাম চেয়ে লিখিত আবেদন দিলে, আমি ইউএনও স্যারকে দিবো। স্যার যদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে করবে।

মৃৎশিল্পীদের ডিজিটাল পদ্ধতি সম্পর্কে গঙ্গাচড়া উপজেলার ইউএনও এরশাদ উদ্দিন বলেন,মৃৎশিল্পীদের ডিজিটাল কোন পদ্ধতি এখনো হয়নি। ভবিষ্যতে হবে কিনা আমি জানিনা।তবে কুমাররা আবেদন করলে আমরা উপরমহলে আলোচনা করে দেখবো।

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By Theme Park BD