বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১১:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আত্রাইয়ে দর্শনীয় ষাঁড় সম্রাটের দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা রাণীশংকৈলে পুকুড়ের পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু জামালপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগ,থানায় মামলা মতলব উত্তরে ডাক্তারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পাল্টাচ্ছে হাসপাতালের পরিবেশ, বাড়ছে সেবার মান কাল থেকে গবিতে ঈদুল আযহার ছুটি  শুরু দম ফেলার ফুরসত নেই ত্রিশালের কামারদের! ছেলের সামনে বাবাকে  কুপিয়ে হত্যা, পিতা-পুত্র গ্রেফতার… রাণীশংকৈলে বিপুল উপস্থিতিতে শিক্ষক আইরিনের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন চলনবিলে কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট, কৃষকের ফুটে উঠেছে রঙিন হাঁসি পাবনায় তীব্র লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ, ঈদ বাজারে লোকসানের আশঙ্কা

প্রেম-ভালবাসার একাল সেকাল

দেশেরকথা
  • প্রকাশ সোমবার, ১৩ জুন, ২০২২
  • ১৫৭ বার-পাঠিত

ভালবাসা এক অদৃশ্য স্বর্গীয় অনুভূতি। প্রত্যেক মানুষের জীবনে ভালবাসা আসে। পৃথিবীর জন্ম থেকে বর্তমান সমাজে প্রচলিত হয়ে আসছে। কিন্তু ভালবাসার জন্য প্রয়োজন হয় দুটি মনের মাঝে চমৎকার বোঝাপড়া। আর এর জন্য প্রয়োজন হয় প্রেম। কারণ প্রেম হলো ভালবাসার যুগল বন্দী হওয়ার প্রথম ধাপ। এই প্রেম দুটি মানুষের জীবনে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক করে দেয়। সুতরাং প্রেম এবং ভালবাসা একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু ভালবাসা হতে পারে পৃথিবীর সকল মানুষের মাঝে। ভালবাসা হতে পারে চির হরিৎ বৃক্ষের প্রতি। তবে প্রেম হয় শুধু প্রেমিক আর প্রেমিকার মাঝে।

ভালবাসার নিদর্শন ছিল সোনালি দিনের অতীত। তৎকালীন ভালবাসা ছিল পবিত্র ও মহান। এতে ছিল দুটি মানুষের কাছে অফুরন্ত অনুভূতি। কিন্তু পছন্দের মানুষের কাছে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ করতে অনেক সময় অপেক্ষার প্রহরে কেটে যেত। তাকে এক পলক দেখার জন্য দিনের পর দিন চলে যেত যে কখন দেখা পাব। দুজনের মাঝে রোমাঞ্চকর মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠতে বছর থেকে যুগ পর্যন্ত লেগে যেত। সেই সময় ছিল না টেলিফোন, ইমেইল, ফেসবুক, মেসেঞ্জার। তারা মনের কথা আদান প্রদান করতো চিঠি লিখে। আর এই চিঠি প্রিয়তমার কাছে পৌঁছাতে ১০-১২ দিন সময় লেগে যেত। প্রেমিকের চিঠির জন্য প্রেমিকা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো। তারা জীবনে ভালবাসার মানুষকে চিরকাল কাছে পাওয়ার জন্য কত দুঃখ, কষ্ট, উৎসর্গ করে। তবে ভালবাসার মানুষকে কাছে পাক আর নাই পাক দূর থেকে চিরকাল ভালবেসে যেত। কিন্তু তাদের এই পবিত্র ভালবাসা বর্তমান সমাজে বিরল হয়ে গেছে।

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। এর কল্যাণে প্রতিটি মানুষের জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন, যুগের পরিবর্তনও ঘটেছে, সাথে সাথে প্রেম- ভালবাসার চিত্র পাল্টে গেছে। বর্তমান সমাজে ভালবাসা যেন ছেলের হাতের মোয়া হয়ে গেছে। এখন, মোবাইল ফোন, ইমেইল, ইমো, হোয়াট আপ, ফেসবুক, মেসেঞ্জারের ছোঁয়া লেগেছে। ফলে খুব সহজে প্রেম করছে। সোনালি অতীতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজলভ্য ছিল না। আধুনিক যুগে খুব সহজে প্রেম হচ্ছে। কিন্তু এই প্রেম ভালবাসা স্থায়ী হচ্ছে না। প্রেম হলো দুদিন, পার্কে ঘুরাঘুরি, ফুসকা, চটপটি আর আইসক্রিম খাওয়ার মধ্যে সীমা থাকছে তথাকথিত ভালবাসা। কারো মাঝে ন্যূনতম সম্মান দেখা যায় না।  কথায় কথায় এসেছে ব্রেক আপ নামক শব্দ। বিবাহিত নারী পুরুষের বিবাহবিচ্ছেদের মতো ব্রেক আপ করছে। কারণ তার আর ভালো লাগছে না। কিন্তু ভালবাসার সংজ্ঞা তো এমন ছিল না। ভালবাসা হচ্ছে চেহারা, ধনসম্পদ দেখে। ফলে চেহারা, ধনসম্পদ স্থায়ী নয়। এসব ফুরিয়ে গেলে ভালবাসার বিলুপ্তি ঘটছে। সবকিছুতে হয়ে গেছে সহজলভ্যতা।

আর এমন ভালবাসা কখনো পবিত্র ভালবাসা হতে পারে না। পবিত্র থেকে হয়ে গেছে অশালীনতায়। ভালবাসা মানে ছেলে মেয়েরা বুঝছে এখন দামি দামি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করা। কিন্তু একজন প্রেমিকের মনে কত ভালবাসা, এটা কেউ দেখছে না। ছলনাময়ী, স্বার্থপর, হিংসাত্মক মনোভাব বিরাজমান আজকের ভালবাসায়। কিন্তু সোনালি অতীতে তো এমন ছিল না। তৎকালীন সময়ে একজন প্রেমিক প্রেমিকা এমন চিন্তা করতেই পারতো না। তারা অপেক্ষায় থাকতো কখন প্রিয় মানুষের সাথে একবার দেখা হবে। কিন্তু বর্তমান সমাজের এমন ভালবাসার কারণ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। খুব সহজে এখন প্রেম হয়ে যায়। ফলে তাদের বিচ্ছেদ হতে সময়ই লাগে না। ইতিহাস খ্যাত সিড়ি ফরহাদ, লাইলী মজনুর প্রেম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। কিন্ত আধুনিক সমাজে এমন কয়টা প্রেম চিরস্মরণীয় হচ্ছে? ভালবাসা হওয়ার চেয়ে বিরহ বেড়েই চলেছে। এমন দৃষ্টান্ত আছে দীর্ঘদিন প্রেম করেও ভালবাসার মানুষকে কাছে পাচ্ছে না। তাদের মাঝে তথাকথিত ব্রেক আপ নামক প্রেম বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো ভালবাসা বলে না, বলা যায় ছলনা। কিন্তু ভালবাসা মানে মনের মানুষকে চিরকাল কাছে পাওয়ার ইচ্ছে এমন ছিল। আধুনিক প্রেমিক প্রেমিকা কাছে পাওয়া পরের কথা, সম্পর্ক করে কিভাবে দূরে থাকা যায় তাই করে। সুতরাং সম্মান জানাই সোনালি অতীতের সেই পবিত্র ভালবাসা আর ধ্বংস কামনা করি আধুনিক ভালবাসার। আর বর্তমান সমাজের ভালবাসা নামক ছলনাময়ী ঘৃণা করি।

মোঃ আবদুল্লাহ আলমামুন
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By Theme Park BD