ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে আন্দোলন চলাকালে ‘হাদির লাশ নিয়া যা’ বলে বিতর্কিত মন্তব্য করা পুলিশ কনস্টেবল রাশেদ কাজীর অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় কার্যক্রমের প্রতি সমর্থনমূলক তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হলে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ছত্রভঙ্গ হয়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পরীবাগের টিএমএসএস নার্সিং ইনস্টিটিউটের গলিতে অবস্থান নেন। সেখানেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে এক পুলিশ কনস্টেবলকে বলতে শোনা যায়, ‘আয় আয়, হাদির লাশ নিয়া যা।’ একটি সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে এই দৃশ্য ধরা পড়লে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে সংশ্লিষ্টরা ওই পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করেন।
তথ্য অনুযায়ী, ওই পুলিশ সদস্যের নাম রাশেদ কাজী। তার ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে ২৯ আগস্ট রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত হন। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি এর আগেই ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।
ফেসবুক কার্যক্রমে দেখা যায়, পুলিশে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পরও তিনি ছাত্রদলের স্মৃতিচারণ করে পোস্ট দেন এবং দলীয় সহযোদ্ধাদের সুস্থতা কামনা করে স্ট্যাটাস দেন। গত বছরের ২১ আগস্ট একটি পোস্টে তিনি শেখ নিশান নামের এক ছাত্রদল নেতাকে ট্যাগ করে তার আরোগ্য কামনা করেন এবং সেখানে ‘নর্থ খুলনা কলেজ ছাত্রদল (সাবেক ও বর্তমান নেতাবৃন্দ)’ উল্লেখ করেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তার ফেসবুক প্রোফাইলটি ‘লক’ করা অবস্থায় দেখা যায়।
যদিও রাশেদ কাজীর ফেসবুক প্রোফাইলে উল্লেখ আছে যে তিনি খুলনা জিলা স্কুল ও সরকারি ব্রজলাল ইউনিভার্সিটি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। নর্থ খুলনা কলেজে পড়াশোনার বিষয়ে ওই একটি পোস্ট ছাড়া অন্য কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাশেদ কাজীসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আন্দোলনকারীরা পুলিশকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে শাহবাগের হাদি চত্বরে ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবি জুবায়ের অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের কিছু সদস্য আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে এবং হামলার পর রাস্তায় নৃশংস আচরণ করেছে। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের তালিকা ইতোমধ্যে পুলিশকে দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ, পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমাকেও সড়কে ফেলে বুট দিয়ে চেপে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।