গুড় পরিস্কারে ব্যবহার করা হয় এক প্রকার ঔষধি গাছের ছাল। এই গাছের ছাল নাকি মেহ প্রমেহ ও ডায়াবেটিস রোগে বিশেষ উপকারী। তাছাড়া সামান্য ডালডা কিংবা সরিষার তেল দেওয়া হয় গুড়ের ফেনা কমানোর কাজে। পরিশ্রমের তুলনায় লাভ কম হলেও জীবন জীবিকার তাগিদে থেমে থাকেনি, সৎভাবে উপার্জনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অদম্য ইচ্ছা । সরকারী সহায়তা পেলে নবাবগঞ্জেই আখের রস থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে গুড় উৎপাদন সম্ভব। পুরাতন পদ্ধতি হলেও বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতে আগের নিয়মে আখের রস থেকে গুড় তৈরি করছি , যেখানে কোনো ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা ভেজাল ব্যবহার করতে হয় না। মাঠের তাজা আখ থেকে রস সংগ্রহ করে বড় কড়াইয়ে ৪-৫ ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে ঘন করে এই খাঁটি গুড় তৈরি করা হয় । এই পদ্ধতিতে কোনো সালফার বা হাইড্রোজেন ব্যবহার করা হয় না, আসল গুড়ের স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ অটুট থাকে । বিস্তারিত জানালেন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বড় মাগুরা (পাকপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বংশানুক্রমে প্রায় দীর্ঘদিন ধরেই বেশ সুনামের সাথে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার না করেই গুড় তৈরী করে আসছেন। আখের রস থেকে তার উৎপাদিত গুড়ের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল নকল গুড় তৈরীর কারখানা গড়ে উঠলেও বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার অভিযান পরিচালনা করে সতর্কতামূলক জরিমানা ও নকলগুড় ধ্বংস কার্যক্রম থেমে নেই। এলাকাবাসীসহ দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতে আখের রস থেকেই গুড় তৈরী করে সাড়া ফেলেছেন তিনি ।
এলাকার একাধিক বয়স্ক ব্যক্তি জানান, জাহাঙ্গীর আলম আমাদের গ্রামেরই ছেলে, সে দীর্ঘদিন ধরেই আখের রস থেকে ভেজালমুক্ত গুড় তৈরী করে আসছে, তার গুড় তৈরীতে কোনো ক্ষতিকারক জিনিস ব্যবহার হয় না। তার আসল ও ভেজালমুক্ত গুড় নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ প্রতিদিনই আসছে । নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরে এসে জাহাঙ্গীর আলম ( জাহাঙ্গীর আলম -০১৭৫১-৭১৯৬১৩)খাটি ও আসল গুড় তৈরী করা জাহাঙ্গীর আলম বললেই তার সাথে যোগাযোগ করা যাবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আখ চাষের বিষয়ে আরও যত্নশীল হলে আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। নবাবগঞ্জে উৎপাদিত আখ থেকেই ভেজালমুক্ত আসল আখের গুড় দেশের বাজারে এমনকি বিদেশে রপ্তানী করে অধিক মুনাফা লাভ করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।