1. admin@daynikdesherkotha.com : Desher Kotha : Daynik DesherKotha
  2. arifkhanjkt74@gamil.com : arif khanh : arif khanh
দ্রব্যমূল্যের চাপ, ভেজাল আতঙ্ক: রংপুরের বাজারে নিত্যদিনের লড়াই – দৈনিক দেশেরকথা
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল উপসাগরীয় ৬ দেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণে ১৪টি বোয়িং কিনছে সরকার, বৃহস্পতিবার বড় চুক্তি সই শ্রীপুরে পানিবন্দী ২০ পরিবারকে রক্ষায় এগিয়ে এলেন বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন সরকার কিশোরগঞ্জে ভিসা প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আকাশের বিরুদ্ধে  সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত, গেজেট প্রকাশ বৃহস্পতিবার প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি, ভূবনেশ্বর নদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে পাকা স্থাপনা এনআইডি আবেদনে এসএসসি সনদ আপলোড বাধ্যতামূলক করল নির্বাচন কমিশন স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তেল উঠানোর সময়  দুই যুবকের জরিমানা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের কৃষিমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ, কৃষি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হাম প্রতিরোধে বাংলাদেশকে ১ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো সহায়তা দেবে ইইউ

দ্রব্যমূল্যের চাপ, ভেজাল আতঙ্ক: রংপুরের বাজারে নিত্যদিনের লড়াই

গৌতম মন্ডল
  • প্রকাশ বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

রংপুর নগরীর শালবন, জাহাজ কোম্পানি মোড় কিংবা পায়রাচত্বর বাজার—যেদিকেই তাকানো যায়, ক্রেতাদের চোখেমুখে একই প্রশ্ন, “দাম কি আর কমবে না?” চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সবজি ও মাছ—নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

নগরীর শালবন বাজারে সবজি কিনতে আসা গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন,“আগে ২০০ টাকায় বাজার শেষ হতো, এখন ৫০০ টাকা নিয়েও সবকিছু কেনা যায় না। তার ওপর কোনটা ভেজাল, কোনটা ভালো বোঝাও দায়।”

রংপুরের একজন পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী জানান,“খামার থেকে বাজারে পণ্য আসতে দেরি হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেড়েছে, বর্ষায় অনেক পণ্য নষ্টও হয়। যোগান ঠিক না থাকলে দাম কমানো সম্ভব না।”

বিশেষ করে আলু, পেঁয়াজ ও শাকসবজির ক্ষেত্রে এই সংকট বেশি দেখা যাচ্ছে। কৃষিপ্রধান জেলা হয়েও সংরক্ষণ ও আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থার ঘাটতি রংপুর অঞ্চলের বড় সমস্যা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভেজাল খাবারের ঝুঁকি। নগরীর কয়েকটি বাজারে খোলা তেল, মসলা ও ফল সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন,“ভেজাল খাবারের কারণে গ্যাস্ট্রিক, লিভার ও কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।”

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান,“আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তবে জনবল ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সব বাজারে একসঙ্গে নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—দু’পক্ষকেই সচেতন হতে হবে, না হলে শুধু অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রংপুর অঞ্চলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে ভেজালবিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং না হলে দ্রব্যমূল্য ও খাদ্য নিরাপত্তা—দুই সংকটই আরও গভীর হবে।

রংপুরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—নিত্যপণ্যের দাম যেন সহনীয় থাকে, আর খাবার যেন নিরাপদ হয়। এই চাওয়া পূরণে কার্যকর উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২৫ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park