শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

ত্রিশালে ধর্ষনের ফলে স্বামী পরিত্যক্তা নারী ৭মাসের গর্ভবর্তী

ইমরান হাসান
  • প্রকাশ রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০২২
  • ২৫১ বার-পাঠিত

ত্রিশাল প্রতিনিধি>ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের কুষ্টিয়া প্রথমখন্ড এলাকায় স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ফলে গর্ভবর্তী হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ভিকটিম কুলসুম ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের কুষ্টিয়া ১ম খন্ড গ্রামের ছফির উদ্দিনের মেয়ে কুলসুম।

১৪/১৫বছর পূর্বে স্বামী কর্তৃক তালাক প্রাপ্ত হওয়ার পর পিতার বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি। ভিকটিমের পাশের বাড়ির ঘর জামাই হিসেবে থাকতেন উসমান আলী।

বাড়ির পাশ্ববর্তী বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে আমার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো এবং প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ তার সাথে শারীরিক সর্ম্পক করার জন্য বিভিন্ন ধরনের লোভ দেখাইতো আমাকে।

আমার বাড়িতে প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়ার এক পর্যয়ে উসমানের সাথে আমার প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫/১১/২০২১ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১২টার সময় উসমানের কথা মত তার সাথে দেখা-সাক্ষাত করার জন্য আসে।

পরে সে আমাকে কথা বলার অজুহাতে পিতার বসত ঘরের পশ্চিমে রান্না ঘরের পিছনে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে উসমান বিবাহ করার প্রলোভন দেখিয়ে মাটিতে শুয়াইয়া আমার পরনে থাকা জামা-কাপড় খুলিয়া ইচ্ছার বিরুদ্ধে দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয়।

এই ঘটনার পর হইতে উসমান বিভিন্ন সময়-সুযোগে নানা জায়গায় নিয়ে গিয়ে মিথ্যা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দৈহিক মিলন করিয়া আসিতে থাকে।

এমতাবস্থায় ২/৩মাসের মধ্যে যাবৎ শারিরীক অসুস্থ বোধ করি। পরে পরিবারের লোকজন প্রাথমিক চিকিৎসা করা স্বত্বেও আমার শারীরিক অবস্থার পরির্বতন হয়নি।

সর্বশেষ গত ২৭/০৬/২০২২ ইং তারিখ দুপুর অনুমান ১২ ঘটিকার সময় পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে বালিপাড়া বাজারে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাফ করিলে ৭ মাসের গর্ভবর্তীর রিপোর্ট পাওয়া যায়।

উসমান আলী কর্তৃক গর্ভবর্তী হওয়ার বিষয়টি আমি পরিবারের লোকজনের নিকট প্রকাশ করি। পরিবারের লোকজন ঘটনা অবগত হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করিলে তারা কোন সুরাহা করতে না পেরে আইনের আশ্রয় গ্রহন করার পরামর্শ দেন।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে, উসমানের পরিবার অর্থ সম্পদের লোভ দেখিয়ে ৭ মাসের বাচ্চাটি নষ্ট করতে কুলসুমের পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

তাতে রাজী না হওয়ায়, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পরে ওই ঘটনায় গত ৬ জুলাই ভিকটিম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এই বিষয়ে ভিকটিমের পিতা ছফির উদ্দিন বলেন, আমার এই মেয়েটা কিছুটা প্রতিবন্দী,কম বুঝে।এলাকায় মুখ দেখাতেও লজ্জা লাগে। এখন আমি আমার এই মেয়েকে নিয়ে খুবই অসহায় অবস্থায় আছি।

মরা ছাড়া কোন পথ দেখছি না। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে উসমান আলীর বাড়িতে গেলে, ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, টাকা দিয়ে সুরাহার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে উসমান তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
এ ব্যাপারে কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ মাস্টার জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়ে, ওই পরিবারকে আমি বলেছি মেয়েটিকে গ্রহন করতে।

৭ মাসের অন্তঃসত্ত¡ার জন্য যে দায়ি, তাকেই এই দায়ভার নিতে হবে।ত্রিশাল থানার ওসি মাইন উদ্দিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By Theme Park BD