বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

ত্রিশালের ফুটপাতে শীতের গরম কাপড় বেচাকেনার ধুম!

ইমরান হাসান
  • প্রকাশ শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৩৯ বার-পাঠিত

ত্রিশাল  প্রতিনিধি>ময়মনসিংহের ত্রিশালে হালকা কুয়াশা নিয়ে এবার শীতের আগমন ঘঠলেও শীতের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে বাতাসে দেখা দিয়েছে হিমেল ছোঁয়া।

কুয়াশার আঁচল সরিয়ে শিশিরবিন্দু মুক্তো দানার মতো দ্যুতি ছড়াতে শুরু করেছে ভোরের নরম রোদে। পৌষের প্রথম সপ্তাহ জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। বিশেষ করে ভোরে ও সন্ধ্যায় শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি। ঘরের বাইরে বের হলে গরম কাপড় চাপাতে হচ্ছে শরীরে।

এদিকে শীত বাড়ার সাথে সাথে হঠাৎ বেড়েছে গরম কাপড়ের চাহিদা। বেচা-কেনাতে জমজমাট হয়ে উঠছে ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন পোশাক বিপণীবিতানে। বাড়ছে ক্রেতার ভিড়। সকাল থেকে শুরু করে রাত ১১ টায় পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। কয়েকদিনে শীত বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতাদের উপস্থিতিই বেড়েছে মার্কেটে মার্কেটে।

ত্রিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সড়ক ও সানাউল্লাহ মার্কেট রোডের ফুটপাতের দোকানগুলোতে থরে থরে সাজানো রয়েছে নানা ডিজাইনের শীত নিবার্ণের পোষাক।

নিম্নবিত্ত বা স্বল্প আয়ের লোকজন ভিড় করছে নগরীর ফুটপাথের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। কারণ কম দামে ব্যতিক্রমী শীতবস্ত্র মিলে ফুটপাথে।

গতকাল ফুটপাতসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায় পুরুষদের শীতের পোশাকের চেয়ে মেয়েদের শীতের পোশাকের মূল্য কিছুটা বেশি । সবচেয়ে বেশি ছোট বাচ্চাদের শীতের পোশাক। সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলছে গরম কাপড়ের কেনাবেচা।

হকারদের হাঁকডাকে মুখরিত ফুটপাথ। পথচারীরা চলতে গিয়ে একবারের জন্য হলেও বেছে নিচ্ছেন নিজের ও পরিবারের ছোট বড়দের জন্য গরম কাপড়। কেউ একদামে কিনছেন আবার কেউ করছেন দর কষাকষি।

ত্রিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাত থেকে শীতের কাপড় কিনতে আসা ৬নং পৌরসভার বাসিন্দা ফারজানা বেগম জানান, হঠাৎ করে শীত বাইড়া গেছে, আমরা গরিব মানুষ । তাই ফুটপাত থেকে কাপড় কিনতাছি, কিন্তু এইহানেও অনেক দাম।

নজরুল একাডেমী রোডে অবস্থিত ফুটপাত দোকানের ক্রেতা মামুন জানান, পৌষ মাস শুরু হয়েছে, তাই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আমরা নিম্ম আয়ের মানুষ, কিছুদিনের জন্যে এতো টাকা খরচ করে মার্কেট থেকে শীতের কাপড় কেনা আমাদের দ্বারা সম্ভব না। তাই অল্প টাকায় বেশ কয়েকটা শীতের কাপড় ফুটপাত থেকে কিনে নিলাম।

কলেজ বাজার ফুটপাত ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, আমার কাছে শীতের কাপড় কেনার জন্যে সকল শ্রেণির লোকজনই আসে। মার্কেটের দামের তুলনায় এখানে কম দামে শীতের কাপড় কিনে ক্রেতারা খুব খুশি।

থানা রোডে অবস্থিত আনিস মিয়া নামের একফুটপাত ব্যবসায়ী জানান, সোয়েটারের দাম মানভেদে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, ছেলেদের সোয়েটার ৮০ থেকে ৫০০ টাকা, ছেলেদের জ্যাকেট ১৮০ থেকে ৭০০ টাকা, বাচ্চাদের সোয়েটার ২২০ থেকে ৫০০ টাকা, হাতের মোজা ৪০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া শিশুদের কানটুপি ৪০ থেকে ২০০ টাকা ও মাফলার ৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া ত্রিশাল উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোর ফুটপাতে শীতের গরম কাপড়ের বেচাকেনা জমে উঠেছে। ফুটপাতের গরম কাপড় বেচাকেনার দৃশ্যই জানান দিচ্ছে, শীতবস্ত্রের কদর কতটা বেড়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customize By Theme Park BD