শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

টুং টাং শব্দে মুখরিত কামার পল্লী 

শাহ্আলীব বাচ্চু
  • প্রকাশ রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২
  • ৮৪ বার-পাঠিত

জামালপুর প্রতিনিধি>ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকী। ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ঈদের ডামাডোল। কোনবানীর ঈদমানেই পশু কোরবানী ও মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম চাপাতি, ছুরি, চাকু দা, বটি বানাতে কামার পল্লীতে টুং টাং শব্দে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামালপুরের কামার শিল্পীরা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, কায়িক পরিশ্রমী এ পেশাজীবীদের কারখানায় চলছে হাঁপর টানা, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামার তৈরি করছেন মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। তাদের এ টুং টাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে আর কিছুদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা ঈদের দিন।

কোরবানির পশু জবাই ও মাংস সাইজ করতে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি অত্যাবশ্যকীয়। সেগুলো সংগ্রহ এবং প্রস্তুত রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। আর এ উপকরণ তৈরি ও শান বা লবন-পানি দেয়ার কাজে প্রয়োজন কামারদের।

পশু কোরবানির দা, ছুরি ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারপাড়ায় ঢু-মারছেন। আবার কেউ কেউ পুরাতন সরঞ্জাম মেরামত অথবা শান দিয়ে নিচ্ছেন।প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানায় কার্মকার শিল্পীরা। বর্তমান অধুনিক যন্ত্রপাতির প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠে এ শিল্প।

শান দেয়া নতুন দা, বটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে। দোকানের জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখে মুখে প্রচন্ড ক্লান্তির ছাপ। তবুও থেমে নেই তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কাজের ব্যস্ততা।

যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি খুব কম।  সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করলেও তাদের মুখে নেই কোন উচ্ছাস, নেই প্রাণভরা হাসি। তারপরও আসন্ন কোরবানির ঈদের কথা মাথায় রেখে নতুন আশায় বুক বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামার দোকানগুলো।

ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চলবে এমন কর্ম ব্যস্ততা। কিন্তু অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান সময়ে কয়লা, লোহাসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লোহার জিনিসপত্র তৈরি করলেও তেমন কোন লাভ হয় না।

অনেক সময় কয়লা একেবারেই পাওয়া যায় না। কি আর করব পূর্ব পুরুষের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই হবে।   ইসলামপুরের পৌর এলাকার উত্তর দরিয়াবাদ, গাঁওকুড়া, মন্ডল পাড়াসহ প্রতিটি ইউনিয়নে আছে কামারের দোকান।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সেখানে লোহা আর হাতুড়ির শব্দে এখন আকাশ-বাতাস মুখরিত। এ পেশার মানুষ সারা বছর কমবেশি লোহার কাজ করলেও কোরবানী ঈদে বৃদ্ধি পায় তাদের কর্ম ব্যস্ততা।

 জামালপুর সদর উপজেলার ঐতিয‍‍্যবাহী নান্দিনা বাজারের কামার মুন্সী মিয়ার  সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরই কোরবানীর ঈদে দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ লোহার বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ মৌসুম ঘিরে ভালো আয় উপার্জন করে থাকেন তারা।

 গোদাশিমলা বাজারের বাবু লাল বলেন আর কিছু দিন পর ঈদ। ঈদের আগে কাস্টমার বৃদ্ধি পাবে। অন্যান্যবার এই সময়ে জমে ওঠে দা-বটির বাজার। এবার এখনো পুরো দমে বিক্রি শুরু হয়নি। দুদিনের মধ্যে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে।

কামার শিল্পী খোকন চন্দ্র কর্মকার, সঞ্জিত কর্মকার ও আবুল হোসেন বলেন, বছরের কোরবানী ঈদে আমাদের মূল টার্গেট থাকে। বছরের কয়েকটা দিন ভালো টাকা, ভালো উপার্জন করার চিন্তা করলে এই দিনগুলা ঘিরেই করা হয়।

কোরবানি কেন্দ্র করে বেশি অর্ডার আসে। অন্যান্য কামার ব্যবসায়ীরাও একই রকম কথা জানান। এখন তাদের আশা ঈদ এগিয়ে আসছে ততোই বিক্রি বাড়বে।দক্ষিণ তুলসীপুরের আঃ জলিল মাস্টার ও রশিদপুরগ্রামের নূরনবী বিশ্বাস বলেন ,  কিছু দিন পরেই ঈদ।

গরু ও ছাগল জবাই দিতে এবং মাংস কাটতে প্রয়োজন চাকু ও ছুরির। সে কারণে বাজারে এসেছি দা, বটি ও ছুরি কিনতে। তবে গত বছরে এসব জিনিসের যে দাম ছিল তার চেয়ে এবারে দাম অনেকাংশে বেশি।

বর্তমানে ভালো মানের প্রতিটি দা তৈরিতে মজুরি নেয়া হচ্ছে ২৫০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। চাকু তৈরিতে ১২০, বড় ছুড়ি তৈরিতে ৫০০-৭০০, বটি তৈরিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

এখনো ঈদের বেশ কিছু বাকি রয়েছে। জেলার কামার শিল্পীদের প্রত্যাশা ঈদের যেহেতু আরো কিছুদিন বাকি রয়েছে বেচাকেনা আরো বাড়বে।সরিষাবাড়ির সামাদ কর্মকার, বাউসী হাটের আজিজ কর্মকার ও বয়ড়া বাজারের সুরুজ কর্মকার জানান, সারা বছর কাজ খুব কম থাকে, কোরবানি এলে কাজ বেড়ে যায়।

কিন্তু এবারের ঈদের আগে বন্যা হওয়ার কারনে বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি।বয়ড়া বাজারে পশু জবাইয়ের ছুরি কিনতে আসা আব্দুল মজিদ, সাইদুল, আলিমুদ্দীনসহ কয়েকজন ক্রেতা জানান, কোরবানির ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছেন।

তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, কাটারির দাম একটু বেশি বলে জানান তারা।এদিকে দামের বিষয়ে এনামুল কর্মকার জানান, বর্তমানে প্রতিটি দা বিক্রি হচ্ছে ৩০০, হাঁসুয়া ১৫০, ছোট ছুরি ৫০, বটি ২০০, কাটারি ২৫০-৩০০ টাকা করে এবং কুড়াল বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকায়।

এছাড়াও জেলা সদরের নান্দিনা, নরুন্দি, লাহেড়িকান্দা, তুলসীপুর, দিগপাইত, জামতলি, সরিষাবাড়ির আরামনগর, শিমলা বাজার, তারাকান্দি, পিংনা, বয়ড়া, ভাটারা বাজার, মাদারগঞ্জ, জোনাইল, মিলন বাজার, শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ি, মেলান্দহ বাজার, চরপলিশা, শ্যামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, সানন্দবাড়ি, বকশীগঞ্জের হাট বাজারে একই অবস্থা। সামধ্য অনুযায়ী কোরবানির কাজে ব্যবহৃত ছুরি, চাকু, দা-বটি ক্রয় করা হচ্ছে।       

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By Theme Park BD