বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জে গ্রামীণ খোঁয়াড় প্রথা বিলুপ্তির পথে

আনোয়ার হোসেন
  • প্রকাশ সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২
  • ৩২ বার-পাঠিত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি>জমির ফসল ক্ষেত খামার বসতবাড়ির গাছপালা বিনষ্টকারী ও অবাদে বিচরণশীল গবাদিপশু আটকে রাখার গ্রাম-বাংলার বিশেষ গারদ বা খোঁয়াড় বিলুপ্তির পথে। গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান খোঁয়াড়‘ ফার্সি শব্দ।

এক সময় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১টি করে খোঁয়াড় ছিল।খোঁয়াড় ইজারা দিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাইকিং করে নিলামে ডাক দেয়া হত।বাংলা বছরের বৈশাখ মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ১ বছরের জন্য ৪থেকে ৫হাজার টাকা মূল্যে খোঁয়াড় ইজারা দেয়া হত।

মূলত গবাদিপশুর কবল থেকে ফসল,গাছপালা রক্ষা করার জন্য।গবাদিপশু কতৃক শস্যক্ষেত্র বিনাশ প্রতিরোধে খোঁয়াড় পদ্ধতি ছিল উত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা।তবে নীলফামারী জনপদের সমাজ ,কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের সাথে গোচারণ ভ’মির স্বল্পতার কারণে বর্তমানে এ ব্যবস্থা প্রায় বিলুপ্তির পথে।

সরেজমিনে নিতাই ইউপির ৪ নং ওয়াডের্র সাবেক খোঁয়াড় ক্রেতা আব্দুল হক বলেন, আগে খোঁয়াড় ডাক নিয়ে আয় হত ।এখন আর নেই।বর্তমান সবাই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে গরু-ছাগল পালে। মাঠে ছেড়ে দেয়া হয়না।

এতে ক্ষেত খাওয়ার মত ঘটনা খুব কম। ফলে এ অঞ্চল থেকে খোঁয়াড় ব্যবস্থা উঠে যাচ্ছে। বাহাগিলী ইউপির উত্তর দুড়াকুটি গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বর বাবুল হোসেন বলেন, এখন হালচাষ,পরিবহনের কাজে গরু-মহিষের দরকার হয়না।

দুধ আর মাংসের জন্য আধুনিক পদ্বতিতে গাভি-ষাঁড় লালনÑপালন করা হচ্ছে। আলাদা ঘর নির্মান করে সেখানে গরু ছাগল পালন করছেন গবাদি পশুর মালিকরা।খাওয়ানো হচ্ছে পোল্ট্রিফিড ও বিশেষ খাবার।এছাড়া নানা ফসল চাষবাস বিস্তৃত লাভ করায় জমি আর অনাবাদি নেই। গোচারণ ভুমিও নেই।

ফলে খোঁয়াড় প্রথা উঠে গেছে।একই ইউপির উত্তর দুরাকুটি গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক খোঁয়াড় ক্রেতা মুকুল বলেন,গত বছর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫শত টাকায় খোঁয়াড় কেনা হয়েছিল।কিন্ত গরু-ছাগল খোঁয়াড়ে না আসায় টাকা উঠানো সম্ভব হয়নি।

তাছাড়া নির্ধারিত হারে টাকা নিয়ে গরু-ছাগলের জেল জরিমানা করা হয়। বোধহীন প্রাণীকে মানুষের বিচারের মুখামুখি করা অমানবিক কাজ। যার কারণে চলতি বছর খোঁয়াড় কেনা হয়নি।

কিশোরগঞ্জ সদর ইউপির সাবেক খোঁয়াড় ক্রেতা হোসেন আলী জানান, খোঁয়াড় থেকে অর্থ আদায় নিয়ম ছিল, ক্ষেত খাওয়ার অপরাধে কোন কৃষক গরু নিয়ে খোঁয়াড়ে আসলে ক্ষতি পুরণ হিসেবে পেতেন ২০টাকা, ছাগলে ১০টাকা।গরুর মালিক সেগুলো ছাড়িয়ে নিতে গরুর জন্য ১শত টাকা ছাগলে ৫০টাকা জরিমানা গুনেন।

হাঁসের ক্ষেত্রে একই নিয়ম। তবে দিন-রাত পার হলে টাকার অঙ্ক বেড়ে যায়। আগে খোঁয়াড়ে জৌলুস ছিল এখন নেই।

সদর ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি গ্রেনেড বাবু বলেন,আগে এ খ্যাত থেকে ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের উৎস ছিল।খোঁয়াড় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল থেকে এ প্রথা উঠে যাচ্ছে।

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By Theme Park BD