বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন

এবার ত্রিশালে মসজিদের রাস্তায় বেড়া দিলো বিএনপি নেতা,প্রতিবাদ করায় মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি!

ইমরান হাসান
  • প্রকাশ বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১০৪ বার-পাঠিত

ত্রিশাল  প্রতিনিধি>ব্যক্তি শত্রুতার জেরে মসজিদে মুসল্লিদের চলাচলের রাস্তায় বেড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা গোলাম হাফিজ শিমুর বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করায় বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার সূর্যসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোখলেছুর রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হাত-পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি। এমন কান্ডে স্থানীয় এলাকাবাসিদের মধ্যে বইছে সমালোচনার ঝড়। সমালোচিত ওই ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের ডাকেরচক গ্রামে।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নতুন বাজারের ডাকের চর এলাকার মন্ডল বাড়ির মসজিদে এ বেড়া দেয়া হয়েছে। যাতায়াতের জন্য এই রাস্তাটি ছাড়াও বাড়ির সামনের খালি জায়গাতেও তারের বেড়া দিয়ে আটকে দিয়েছে অভিযুক্ত ওই বক্তি ও তার পরিবারের লোকজন। ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটির দরজা-জানালা সহ সামগ্রিক অবস্থা জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে। বেড়াতে লাগানো তালা তার ইচ্ছামতো সে লাগায় এবং খোলে বলেও জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

এলাকাবাসী জানান, আব্দুল বারী মন্ডলের ছেলে গোলাম হাফিজ শিমু এই বেড়াটি দিয়েছেন। প্রায় এক সপ্তাহ যাবত এই বেড়াটি দেয়া রয়েছে। মসজিদের নামে প্রায় তিন একর জায়গা-ফসলি জমি ও ফিসারি সে কোনো হিসাব না দিয়ে ভোগদখল করে খাচ্ছে বলেও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। মসজিদের নামে এই বিশাল সম্পত্তি থাকার পরও জরাজীর্ণ হয়ে আছে এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি।

ভুক্তভোগী শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘শিমু একাই কোনো হিসাব না দিয়ে ১৫ বছর ধরে মসজিদের প্রায় তিন একর জমি নিজের মতো করে ভোগদখল করে খাচ্ছে। সে কয়েকদিন আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বাড়ির আঙিনায় ও মসজিদে প্রবেশের রাস্তায় বেড়া দিয়ে আটকে দিয়েছে, যা এখনো আছে। এ বিষয়ে আমরা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি।’

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘মসজিদটি দেড়শ বছরের পুরোনো। এই মসজিদে প্রবেশের রাস্তায় বেড়া দিয়েছে সে। আমরা বাড়ির লোকজনও বন্দী হয়ে আছি। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসা-যাওয়া করতে অসুবিধা হচ্ছে। তার ইচ্ছামতো অনেক সময় তালাও লাগিয়ে রাখে। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও এই বয়সে এসে আমাকে এগুলো দেখতে হচ্ছে। আমি এ বিষয়ে বলতে গেলে আমাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সে। সে আরও বলে তাকে ডিসি, শেখ হাসিনাও কিছু করতে পারবেনা।’

তবে অভিযুক্ত গোলাম হাফিজ শিমু এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মসজিদের সম্পদ ভোগদখল করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি বাড়ির উঠানে ধান লাড়লে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি খেয়ে ফেলে তাই বেড়া দিয়েছি। মসজিদের পুকুরের পাড়ে লাগানো গাছপালা খেয়ে ফেলে বিধায় রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। তবে চতুর্দিকে কোনো বেড়া না থাকলেও শুধু রাস্তায় কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সে বলে, বাকিটুকুও পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।’

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ফয়েজউদ্দিন বলেন, এটা তাদের পারিবারিক ঝামেলায় হয়েছে। তবে এভাবে রাস্তায় বেড়া দেয়াটা ঠিক হয়নি। উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে দ্রæতই এর একটা সমাধান করা হবে। আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মাইন উদ্দিন জানান, অভিযোগ দেয়া হলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, এব্যাপারে অফিসিয়ালি কোনো অভিযোগ এখনো পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রæত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customize By Theme Park BD