আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিতা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে দলটি এই প্রতিশ্রুতিপত্র প্রকাশ করে।
ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদসহ শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ঘোষিত ইশতেহারে এনসিপি মানবাধিকার, বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। দলটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়সীমা ও দায়বদ্ধ কাঠামো তৈরির জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন, অতীতের গণহত্যা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মবিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন প্রতিরোধে মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ সেল গঠনের কথা বলা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন ও স্বচ্ছতা বাড়াতে মন্ত্রী, এমপি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আয়-সম্পদের হিসাব অনলাইনে প্রকাশ, আমলাতন্ত্রে পারফরমেন্সভিত্তিক পদোন্নতি, পে-স্কেল হালনাগাদ এবং এনআইডিকে সব নাগরিক সেবার মূল চাবিকাঠি হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি, কর্ম-সুরক্ষা বীমা ও পেনশন, টিসিবি ব্যবস্থার সংস্কার, সামাজিক আবাসন প্রকল্প, কর ব্যবস্থায় সংস্কার এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর অঙ্গীকারও রয়েছে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এনসিপি আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এসএমই খাতে বিশেষ তহবিল, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের সহায়তা, প্রবাসী কর্মীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিক্ষা সংস্কার, উচ্চশিক্ষায় ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং স্বাস্থ্য খাতে বিশেষায়িত সেবা জোন, জাতীয় অ্যাম্বুল্যান্স ও ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড চালুর কথাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি, ডে-কেয়ার সুবিধা, প্রবাসীদের জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল পোর্টাল, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি ভর্তুকি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত হত্যা, নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে।
এনসিপি নেতারা জানান, এই ৩৬ দফা ইশতেহারের মাধ্যমে তারা একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও কর্মসংস্থানমুখী রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন, যেখানে তরুণ সমাজ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।