1. admin@daynikdesherkotha.com : Desher Kotha : Daynik DesherKotha
  2. arifkhanjkt74@gamil.com : arif khanh : arif khanh
ঈদের আগে ফিতরা আদায় কেন জরুরি: সহিহ হাদিসে ফিতরার বিধান – দৈনিক দেশেরকথা
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী’র বিশেষ সহকারী হি: নিয়োগ পেলেন সাদ্দাম হোসেন আলমডাঙ্গায় প্রধান শিক্ষকের পিটুনিতে ৮ শিক্ষার্থী আহত পুরুষের কোন বয়সে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা সবচেয়ে ভালো থাকে? ভেড়ামারায় ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬ বিজ্ঞান মেলা” শুভ উদ্বোধন বেনাপোল পৌরবাসীর সেবক হতে চান মফিজুর রহমান নববর্ষ বরণে মুখর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গ্রেপ্তারের ৬ দিন পর জামিনে কারামুক্ত সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজ আটকানোর নির্দেশ, হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের কুড়িগ্রামে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ  গোপালপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৭০  লক্ষ টাকার মালামাল ভস্মীভূত

ঈদের আগে ফিতরা আদায় কেন জরুরি: সহিহ হাদিসে ফিতরার বিধান

দেশেরকথা ডেস্ক:
  • প্রকাশ শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম, ধৈর্য এবং মানবিকতার এক মহিমান্বিত প্রশিক্ষণকাল। এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন মুসলিম উম্মাহ ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নেয়, ঠিক সেই মুহূর্তে ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক ইবাদতের নির্দেশ দেয়—সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায়। এই ফিতরা শুধু একটি আর্থিক অনুদান নয়; বরং এটি এমন একটি ইসলামী ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষও ঈদের আনন্দে শামিল হওয়ার সুযোগ পায়।

ইসলামী শরিয়তে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। পরিবারের প্রধান ব্যক্তি নিজের পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করেন। এর মাধ্যমে সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।

ফিতরার বিধান সম্পর্কে সহিহ হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে বলা হয়েছে—

আরবি:
فَرَضَ رَسُولُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى الْعَبْدِ وَالْحُرِّ وَالذَّكَرِ وَالْأُنْثَى وَالصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ

অর্থ:
“রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের ওপর সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন—এক সা খেজুর বা এক সা যব। এটি দাস-স্বাধীন, নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সব মুসলমানের ওপর প্রযোজ্য।”
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ফিতরা এমন একটি ইবাদত যা সমাজের প্রায় প্রতিটি মুসলমানের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ পরিবারে যারা আছে, তাদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করা হয়, যাতে সবাই ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে।

ইসলামে ফিতরার মূল উদ্দেশ্য শুধু দান করা নয়; বরং এটি রোজাদারের আত্মিক পরিশুদ্ধির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

আরবি:
فَرَضَ رَسُولُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ

অর্থ:
“রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাদারকে অনর্থক কথা ও ভুলত্রুটি থেকে পবিত্র করার জন্য এবং দরিদ্রদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য।”
(সুনানে আবু দাউদ)

এই হাদিসে ফিতরার দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রথমত, রোজা পালনের সময় মানুষ যে অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি করে, ফিতরা সেই ত্রুটিগুলোর কাফফারা হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয়ত, এটি দরিদ্র মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করে, যাতে ঈদের দিন তারা অভাব-অনটনের কষ্টে না থাকে।

ইসলামের দৃষ্টিতে ঈদ শুধু ধনী মানুষের আনন্দের উৎসব নয়। বরং এটি এমন একটি উৎসব, যেখানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ সমানভাবে আনন্দ ভাগাভাগি করবে—এই নীতিই ইসলামের শিক্ষা। ফিতরা সেই মহান লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

ইসলামী ইতিহাসে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ থেকেই ঈদের আগে ফিতরা আদায়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হতো। সাহাবায়ে কেরাম ঈদের নামাজে যাওয়ার আগেই দরিদ্র মানুষের হাতে ফিতরা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতেন, যাতে তারা ঈদের দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারেন।

ফিতরা সাধারণত খাদ্যশস্যের পরিমাপ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছিল। হাদিসে এক “সা” পরিমাণ খাদ্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এক সা প্রায় আড়াই থেকে তিন কেজির মতো খাদ্যশস্যের সমান ধরা হয়। তবে বর্তমান সময়ে অনেক দেশেই খাদ্যশস্যের মূল্যের ভিত্তিতে নগদ অর্থ হিসেবেও ফিতরা আদায় করা হয়।

বাংলাদেশেও প্রতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন খাদ্যশস্যের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ফিতরার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করে দেয়। সেই নির্ধারিত হার অনুযায়ী মুসলমানরা ফিতরা আদায় করেন। কেউ কেউ খাদ্য দিয়ে ফিতরা দেন, আবার অনেকেই নগদ অর্থ দিয়ে দরিদ্র মানুষের হাতে তা পৌঁছে দেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ফিতরা ইসলামের একটি অত্যন্ত সুন্দর সামাজিক ব্যবস্থা। এটি সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্তিশালী করে। যখন একজন ধনী ব্যক্তি তার সম্পদের একটি অংশ দরিদ্র মানুষের মাঝে বণ্টন করেন, তখন সমাজে বৈষম্য কমে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।

বিশেষ করে রমজান মাসের শেষ সময়ে অনেক দরিদ্র পরিবার ঈদের প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খায়। নতুন কাপড়, খাবার কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সামর্থ্য অনেকেরই থাকে না। সামর্থ্যবান মুসলমানদের দেওয়া ফিতরা তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়।

আলেমদের মতে, ফিতরা আদায়ের উত্তম সময় হলো ঈদের নামাজের আগে। এতে দরিদ্র মানুষ ঈদের দিন প্রয়োজনীয় খাবার ও সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারে। তবে যদি কেউ ঈদের আগে দিতে না পারেন, তাহলে পরবর্তীতেও তা আদায় করা যাবে; কিন্তু তখন তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে।

পবিত্র রমজান শেষের প্রহরে মুসলিম সমাজে ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে যে সহমর্মিতা ও মানবিকতার চিত্র ফুটে ওঠে, তা ইসলামের সৌন্দর্যকেই আরও উজ্জ্বল করে তোলে। তাই ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের উচিত যথাসময়ে ফিতরা আদায় করা এবং তা প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এতে একদিকে যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, অন্যদিকে সমাজে ন্যায়, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার এক সুন্দর পরিবেশ গড়ে ওঠে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২৫ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park