শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

মন্দিরে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখতে গিয়ে আটক হলো ইদ্রিস

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশ শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৪৪৫ বার-পাঠিত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় মন্দিরে কোরআন শরীফ রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় মো. ইদ্রিস (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) পুলিশ বাদী হয়ে ধর্মীয় অবমাননা আইনের ধারায় মামলা রুজু করেছেন।
গেলো বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বগা ইউনিয়নের উত্তরপালপাড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটেছে।আটক ইদ্রিসের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. লেদু মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তরপালপাড়া গ্রামের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের অদূরে দিলীপ পালের বাড়িতে গত তিন দিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান চলছে। গত বুধবার ছিল অনুষ্ঠানের শেষ দিন। 
ওইদিন রাত তিনটার দিকে অনুষ্ঠান চলাকালীন ইদ্রিস নামে ওই ব্যক্তি হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে ঢুকে। ওই সময় শুকরঞ্জন বৈরাগী নামে এক পুরোহিতের বাধার মুখে ওই ব্যক্তি চলে যায়।
ওই রাতেই অনুষ্ঠান শেষে সঞ্জয় পাল (৩৪), সজল পাল (৩০) ও কার্তিক পাল (৩৫)  নামে তিন ব্যক্তি বাড়ি ফেরার পথে রাত সাড়ে তিনটার দিকে  দেখতে পান পাশের কালীমাতা মন্দির থেকে দাড়িওয়ালা ওই ব্যক্তি বের হয়ে হচ্ছেন।
সঞ্জয় পাল বলেন, গভীর রাতে মন্দির থেকে ওই ব্যক্তিকে বের হতে দেখে জানতে চাই মন্দিরে ঢুকলেন কেন? উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন, সেজদা দিতে মন্দিরে গিয়েছিলাম। 
আপনি মুসলিম হয়ে মন্দিরে গেলেন একথা বলতে-ই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে ইদ্রিসকে আটক করে ফেলে।
পরে তাঁরা দেখতে পান মন্দিরের কালীমাতা প্রতিমার সামনে ঘটের ওপর একটি ব্যাগ রাখা। ওই ব্যাগ খুলে দেখতে পান কোরআন শরীফ। একপর্যায়ে ইদ্রিস কোরআন শরীফ রাখার কথা স্বীকার করেন। 
পরে পুলিশে খবর দিলে ভোররাত চারটার দিকে পুলিশ গিয়ে ইদ্রিসকে আটক করে বাউফল থানায় নিয়ে যান।
উত্তরপালপাড়া রাধাগোবিন্দ মন্দিরের সভাপতি দিলীপ পাল বলেন,‘ভাগ্য ভালো যে, হাতে-নাতে ধরা পড়েছে। তা না হলে বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারতো। তখন এর দায় কে নিত? এমন ঘটনা ওই ব্যক্তি কেন এবং কি উদ্দেশ্যে করেছে তা প্রশাসনের অধিকতর তদন্ত করে বের করতে হবে।’
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বাউফল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র পাল বলেন,‘ আমরা উপজেলা নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়কে আতংঙ্কিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ওই ব্যক্তির বাড়ি বাকখরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া গ্রামে। সে দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া এলাকার কদমতলা আবাসনে থাকেন। 
তাঁর এক স্বজন জানিয়েছেন ইদ্রিস মাঝে মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। এরপরেও এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ধর্মীয় অবমাননা আইনের ধারায় মামলা রুজু করেছেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আতংঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। মন্দির এলাকায় পুলিশি মোতায়েন করা হয়েছে।’

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By Theme Park BD