শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

‘অংকন অনেক আত্মবিশ্বাসী ছিলো, আত্মহত্যা না তাঁকে হত্যা করা হয়েছে’

রিদুয়ান ইসলাম 
  • প্রকাশ বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২
  • ২৮ বার-পাঠিত

জবি প্রতিনিধি>

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী অংকন বিশ্বাস অনেক আত্মবিশ্বাসী ও মেধাবী ছিলো, সে আত্মহত্যা করতে পারেনা, তাঁকে হত্যা করে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে অংকন বিশ্বাসের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই আমি অংকন দিদির সাথে মিশেছি। তাঁর কাছ থেকে বিতর্ক শিখেছি, একসাথে বিতর্ক করেছি। তাঁর মতো স্পষ্টভাষী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, আত্মবিশ্বাসী ও মেধাবী শিক্ষার্থী কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেনা, আমি বলছি তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী পিয়াল দাস অনুপ বলেন, ‘অংকন বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। ডিপার্টমেন্টে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি। এই ঘটনাও যাতে আগের মতো ধামাচাপা পরে না যায় সেজন্য সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘অংকন বিশ্বাসের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার জন্য আমরা যেভাবে সবাই এগিয়ে এসছিলাম, তেমনিভাবে এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনেও আমরা সবাই এগিয়ে আসবো এই প্রত্যাশা।’

সুমাইয়া ইসলাম সোমা বলেন, ‘অঙ্কনের এ রহস্যজনক মৃত্যু ধামাচাপা না পড়ুক। তদন্ত করে বের করা হোক কি কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সে হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছে এসব নিয়ে না কথা বলে জগন্নাথের শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর মৃত্যুর কারণ বের করে আনতে সবার এগিয়ে আসা উচিত। এ নিয়ে এখনও কোনো মামলা হয়নি, তাঁর পরিবারও চুপ করে রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতে তাঁর পরিবারের সহযোগিতা করা উচিৎ।’

নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সোমা বলেন, “অংকন বিশ্বাস একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। অকালে একটি ফুল ঝরে পড়লো আমরা তা মেনে নিতে পারছিনা। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত  হওয়া দরকার। নাহলে প্রতিদিন এরকম অনেক অংকন বিশ্বাসের মৃত্যু বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ধামাচাপা পড়ে থাকবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে এই মৃত্যু রহস্য তদন্তের দাবি জানাই।”

উল্লেখ্য, অঙ্কন বিশ্বাসের মৃত্যু নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল স্বামীর বাসায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন অঙ্কন বিশ্বাস। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৮ মে মৃত্যুবরণ করেন অঙ্কন। মৃত্যুর পর জানা যায় ধর্মান্তরিত করে এই শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ। এদিকে বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী শাকিলের সাথে বিভিন্ন সময় মনোমালিন্য ও বিয়ের বিষয়ে ডিপ্রেশনে থাকতেন অঙ্কন।

দেশেরকথা/বাংলাদেশ

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২১ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By Theme Park BD